পাপিয়াকাণ্ড: দায় কার?

পাপিয়াকাণ্ড: দায় কার?

প্রতারণা, অবৈধ অর্থ পাচার, জালটাকা সরবরাহ, মাদক ব্যবসা ও অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে এরই মধ্যে আটক হয়েছে নরসিংদী জেলা যুবমহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা নুর পাপিয়া। আটকের পরপরই সামনে চলে আসতে থাকে তার অপকর্মের পাহাড়। রাজনৈতিক অঙ্গনেও পাপিয়াকে নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা।
।আরো খবর

সারাদেশে যুব মহিলা লীগ নেত্রীদের সম্পর্কে খোঁজ নেয়া শুরু
রিমাণ্ডের প্রথমদিনেই পাপিয়ার মুখে ‘রাঘববোয়ালদের’ নাম
পাপিয়ার ‘এইচআইভি’ পরীক্ষা করা হোক, দাবি আলালের

পাপিয়া আটক হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবমহিলা লীগকে। পাপিয়ার অপকর্মের এই দায় কী সংগঠন নেবে নাকি পাপিয়াকে বহন করতে হবে সে বিষয়ে বাংলাদেশ জার্নালের সাথে কথা বলেছেন সংগঠনের শীর্ষ দুই নেত্রী।

যুবমহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেন, সংগঠনের কর্মী কোনো অপরাধ করলে দায়টা এড়ানো সম্ভব না, দায় তো এসে পড়বেই। তবে পাপের ভাগীদার হবে যারা ওকে সহযোগীতা করেছে তারা। পাপ তো যার যার, এর ভাগীদার তো সবাই হবে না। যেহেতু সে আমার সংগঠনের কর্মী ছিলো সুতরাং সংগঠনের উপর দায়টা আসেই।

একই প্রসঙ্গে ভিন্নভাবে মতামত দিয়েছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল। তিনি বলেন, পাপিয়ার অপকর্মের দায় যুবমহিলা লীগ কখনোই নিতে পারে না। তবে তার এই অনাচার কুকীর্তির কারণে সংগঠন বিব্রত ও লজ্জিত। এই মুহূর্তে ঘৃণা প্রকাশ করা ছাড়া তার দায় দায়িত্ব সংগঠন নেবে না।

তিনি বলেন, এটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। তারপরেও আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছি, তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। এখন ব্যক্তির দায় ব্যক্তিকে বহন করতে হবে।

পাপিয়ার মত আরো কেউ যুবমহিলা লীগে আছে কিনা কিংবা তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে নাজমা আক্তার বলেন, অনেক সময় অনেকের ক্যারেক্টারের বিষয়ে কিছুকিছু বুঝি, তথ্য প্রমাণের অভাবে কিছু বলতে পারি না। আসলে আমরা তো গোয়েন্দাগিরি করতে পারি না। এটা বোঝার পরে যখন কাউকে কিছু বলা হয় তখন বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়। আরো পাঁচজনকে দিয়ে তারা বলায় যে এটা ঠিক না। তাদের সঙ্গে অনেক হোমরা চোমরা লোকদের পরিচয় আছে, তারাই বলে যে এটা ঠিক না। তখন আমাদের আবার গুটিয়ে যেতে হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন তাদের ধরে তখন তারা এটা আর অস্বীকার করতে পারে না।

যদি কেউ অ্যাপ্লিকেশন করে যে সে কাউকে হেয় করেছে বা তাদের কাছ থেকে আনডিউ কোন কিছু নিয়েছে, তাহলে আমরা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারি, তদন্ত করতে পারি। কমপ্লেইন না করলে তো আর তদন্তের প্রশ্নই আসে না।

আপনারা অনেকসময় চাপে পড়তে হয় এসব বিষয় দলীয় হাইকমান্ডকে জানাবেন কিনা এমনটি জানতে চাইলে নাজমা বলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই জানাবো। এটা এখন উনিও (আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা) জানেন। পাপিয়া এখন রিমান্ডে আছে, তার কাছ থেকে যে তথ্যগুলো আসবে সেটি তো অবশ্যই হাইকমান্ডের কাছে যাবে। যারা তাদের সেলটার দেয়, সাপোর্ট দেয় সেগুলো তো আসবেই। যদি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় তাহলে এই পাপিয়াদের বিচার হবে। তা না হলে যুগে যুগে পাপিয়ারা তৈরি হতে থাকবে।

তিনি জানান, কোনো সংগঠনের প্রেসিডেন্ট বা অন্যকেউ এটা দমন করতে পারবে না যদি যারা এটার সাথে জড়িত নেতা বা নেত্রী তাদেরকে যদি না ধরা হয়। তাদের মুখোশ যদি উন্মোচন করা না হয় তাহলে পাপিয়াদের ব্যবসা চলতেই থাকবে। আর এর দায় আমাদের নিয়ে পদত্যাগ করতে হবে নতুবা আমাদের কমিটি ভেঙে দেয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল বলেন, ইতিমধ্যে আমরা মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিয়ে খোঁজখবর নেয়া শুরু করেছি। আমাদের ৪০টি টিম রয়েছে বিভিন্ন জেলায়। আর নরসিংদীতে যে টিম রয়েছে তারা কেন ওর (পাপিয়া) গতিবিধি ফলো করতে পারে নাই, সেজন্য তাদের কাছে আমরা জবাব চেয়েছি। গতকালই আমরা জেলার দায়িত্বে থাকা সকল টিমকে নির্দেশনা দিয়েছি সব মেয়েদের খোঁজখবর নিতে এবং লিখিত আকারে রিপোর্ট করতে। কিংবা সন্দেহভাজন হলেও তার বিষয়ে খোঁজখবর বা তদন্তের নির্দেশনা দিয়েছি।

জাল টাকা সরবরাহ, মাদক ব্যবসা, অনৈতিক কাজ, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক রাখার অভিযোগে পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে মতি সুমনসহ চারজনকে গতকাল মঙ্গলবার থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে রাজধানীর বিমানবন্দর থানার পুলিশ। পাপিয়া নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে থাকা অবস্থায় বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় ২২ ফেব্রুয়ারি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক হন। ধরা পড়ার পর তাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। পাপিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় অর্থ পাচার ও জাল টাকা রাখার ঘটনায় একটি মামলা এবং শেরেবাংলা নগর থানায় মাদক ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :
error0



এই বিভাগের আরো খবর