কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে চমক আসছে আওয়ামী লীগে-আলোচনায় যারা

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে চমক আসছে আওয়ামী লীগে-আলোচনায় যারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে যুগোপযোগী নেতৃত্ব খুজছেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নবীন-প্রবীনের সমন্বয়নে গঠন করা হবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সহযোগী সংগঠন ও ঢাকা মহানগরের নেতৃত্ব পরিবর্তনের মতো চমক থাকবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্বাচনে। এবার বাদ পড়ছেন কেন্দ্রীয় কমিটির প্রায় অর্ধেক নেতা। এদের মধ্যে কেউ কেউ বাদ যাচ্ছেন নানা কারণে বির্তকিত হওয়া এবং কেউ কেউ বাদ পড়বেন বয়সের কারণে। এখন নতুন মুখের সন্ধ্যান করছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

দলের একাধিক সূত্রমতে, এবার চ্যালেঞ্জিং নেতৃত্ব খুজছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী, পরীক্ষিত নেতাদের স্থান দেবেন কেন্দ্রীয় কমিটিতে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যারা রাজনীতি করেছেন এমন পরিবার থেকে নেতৃত্ব আসবে দলে। আবার সমাজের আলোকিত মুখও দেখা যাবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে।

এবার যেসব নতুন আসতে পারে তাদের মধ্যে জোর আলোচনায় আছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও নড়াইল-২ আসনের সাংসদ মাশরাফি বিন মর্তুজা, কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর-হোসেনপুর) আসনের সাংসদ, বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের কন্যা ও প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ছোট বোন ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি, শহীদ ডাঃ এ এফ এম আবদুল আলীম চৌধুরীম মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী শম্পা, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, মনোনয়ন বঞ্চিত ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আ খ ম জাহাঙ্গীর, নব্বয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতা, বর্তমান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপকমিটির সদস্য শফী আহমেদ, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত সিকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না, সাবেক রাষ্ট্রপ্রতি জিল্লুর রহমানের ছেলে ও বিসিবি’র সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। দলে আবার ফিরতে পারেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা-৭ আসনের মনোনয়ন বঞ্চিত ডা. মোস্তফা জালাল। সাবেক ছাত্র নেতাদের মধ্যে শাহাবুদ্দিন ফরাজী, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন, ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির দুই বারের সহ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে এম আব্দুল মোমেন। বর্তমান কমিটির থেকে সিলেট বিভাগের কেউ কেউ উপদেষ্টা পদে চলে যেতে পারেন। সেই পদগুলোতে আবার নতুন কেউ আসতে পারে। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সিআরআই সদস্য মিলন পাঠান, সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, তিনি উপদেষ্ঠা হিসেবে নতুন কমিটিতে স্থান পেতে পারেন। নারায়ণগঞ্জ থেকে সাংসদ একেএম শামীম ওসমান, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয় আব্দুল খালেক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের ছেলে আজিজুস সামাদ ডন, সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী ও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি রুবিনা আক্তার মিরা, সাবেক সাংসদ ফজিলাতুন নেছা বাপ্পি, সাবেক সংরক্ষিত আসনের সাংসদ সানজিদা খানম, বরিশালের প্রযাত মেয়র শওকত হোসেন হিরনের স্ত্রী জেবুন্নেছা হিরন, জামালপুরের সংরক্ষিত নারী এমপি ও মেজর জেনারেল খালেদের মেয়ে মাহজাবিন খালেদ, শহীদ আলতাফ মাহমুদের মেয়ে শাওন মাহমুদ। পেশাজীবিদের মধ্যে শিক্ষাবিদ ড. সেলিম মাহমুদ। তিনি আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার তৈরী কাজের সাথে জড়িত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সাবেক এপিএস সাইফুজ্জামান শিখর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সদ্য বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক প্রটোকল অফিসার আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম আগামী কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে পারেন।

এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যাক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। এছাড়াও জেলা কোটায় চট্টগ্রামের প্রবীন নেতা আব্দুচ ছালাম, কুমিল্লা আওয়ামী লীগের প্রবীন নেতা ও সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। তিনি জেলা কোঠায় কুমিল্লায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য পদেও আসতে পারেন। কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের প্রবীন নেতা আফজল খান কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্ঠা পদেও আসতে পারেন। তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কোনো পদে না আসলে তার মেয়ে সংরক্ষিত এমপি আঞ্জুম সুলতানা সীমা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য পদ পেতে পারেন। কুমিল্লার আরেক ত্যাগী নেতা গাজী এমদাদও আলোচনা রয়েছেন। পলাশ ডাঙ্গা যুব শিবিরের সহ অধিনায়ক ও সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সাংসদ বীরমুক্তিযোদ্ধা গাজী ম.ম আমজাদ হোসেন মিলন। দেশ স্বাধীনের পর তিনি তাড়াশ-রায়গঞ্জ, গুরুদাসপুর, সিংড়াসহ চলনবিল এলাকায় আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করেন। সিলেটের প্রবীন নেতা ও বর্তমান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশি কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ বীর মুক্তিযুদ্ধা উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ, সুনাগঞ্জের সাবেক ছাত্র নেতা মতিউর রহমান পীর, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিলের পিতা ও ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের প্রবীন নেতা এ্যাডভোকেট মো. জহিরুল হক খোকা, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু, তিনি এরশাদের আসনে উপ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তবে জোটের কারণে তিনি প্রত্যাহার করেন। কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রবীন নেতা জাফর আলী, নওগার প্রবীন নেতা সাবেক পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী ইমাজউদ্দীন প্রামাণিক, নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রবীন নেতা অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, নীলফামারীর বীরমুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের প্রবীন রাজনীতিবিদ, পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ভুমিমন্ত্রী সামশুর রহমান শরীফ ডিলুসহ অনেকেই আসতে পারেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে।

আপনার মতামত লিখুন :
error0



এই বিভাগের আরো খবর