চবিতে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে আহত ৫, শাটল ট্রেন বন্ধ

চবিতে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে আহত ৫, শাটল ট্রেন বন্ধ

চবি প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) হল দখল কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ছাত্রলীগের ৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

রোববার মধ্যরাতে সোহরাওয়ার্দী হলের মোড়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের বিজয় ও সিএফসি গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এদিকে মধ্যরাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের বিজয় ও সিএফসি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা কেন্দ্র করে নগরের বটতলী রেলস্টেশনে অবস্থান করা দুটি শাটল ট্রেনের হোসপাইপ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

এতে করে রোববার সকাল সাড়ে ৭টা ও ৮টার নির্ধারিত ট্রেন দুটি ক্যাম্পাসের উদ্দেশে আসতে পারেনি। একই সঙ্গে ট্রেনের লোকো মাস্টারকে অপহরণ করার কিছু সময় পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। ফলে বন্ধ হয়ে যায় যোগাযোগ।

আহতরা হলেন- ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের মোহাম্মদ ইলিয়াস, সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক ও পরিসংখ্যান বিভাগের একই বর্ষের মাহফুজ আহমেদ, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ওবায়দুল হক, ভূগোল বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের প্রিয়ম রায় প্রান্ত, লোক প্রশাসন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের নিলয় হাসান। তারা সবাই বিজয় গ্রুপের নেতাকর্মী।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে ভোরে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহনের সব শিক্ষক ও স্টাফ বাসের তালায় সুপারগ্লু লাগিয়ে দেয়ায় বাস চলাচলও বন্ধ রয়েছে।

চবি ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেলকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়েছে চবি ছাত্রলীগের একাংশ।

চবি ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এইচএম তারেকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের নির্দেশে এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়। তাকে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে চেয়েছি। কিন্তু সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে রাজনীতি করার মন মানসিকতা তার নেই। তার মতো একজন অছাত্রের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের রাজনীতি কখনও সফল হবে না। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি এবং দ্রুত তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করার জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

তবে পূর্বপরিকল্পিত হামলার অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়েছেন চবি ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, ইলিয়াস হিযবুত তাহরির সঙ্গে যুক্ত এবং কিছু দিন আগে শাটল ট্রেনে পোস্টার লাগানোর কাজে যুক্ত ছিলেন।

তিনি বিভিন্ন সময় অস্ত্র ঠেকিয়ে নেতাকর্মীদের হুমকি-ধমকি দিতেন। রাতে হলে ছাত্রলীগকর্মীদের অস্ত্র ঠেকালে তাকে প্রতিহত করেন। কমিটির শুরু থেকে তিনি ঝামেলা করে আসছেন। ইলিয়াস ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। তাকে আমরা দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।

আপনার মতামত লিখুন :
error0



এই বিভাগের আরো খবর