বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডে জিয়াউর রহমান সকল পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন: আব্দুর রহমান

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডে জিয়াউর রহমান সকল পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন: আব্দুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডে জিয়াউর রহমান সকল পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা সম্ভব হতো না। যদি না, পাকিস্তানি পক্ষ অবলম্বন করে খুনি জিয়াউর রহমান। আমার পিতাকে হত্যা করার সকল ষড়যন্ত্র পাকাপক্ত না করতো। সেই দিন বঙ্গবন্ধুকে হত্যার জিয়াউর রহমানই সমস্ত পরিকল্পনা রচনা করে ছিলেন। ক্যাপ্টিন বেগের সেই চিঠি প্রমান করে জিয়াউর রহমান হত্যার পরিকল্পনা কারী। তাই স্পষ্ট ভাবে বলতে চাই, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডে জিয়াউর রহমান প্রত্যক্ষ ভাবে শুধু জড়িত না তিনি এই হত্যাকান্ডের সকল পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছিলেন। আজ মঙ্গলবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগ কতৃর্ক আয়োজিত ‘১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘটনাটি কেন ঘটে ছিল? কারা ঘটিয়েছিল? এই ধরণের ঘটনার লক্ষ্য কী ছিল? উদ্দেশ্য কী ছিল? এই ঘটনার সর্ম্পকে যদি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জানে তাহলেই এই শোক দিবসের আলোচনা সভা সফল হবে।

আব্দুর রহমান বলেন, ১৯৭৪ সালে কৃত্রিম দুুর্ভিক্ষ তৈরী করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়ে ছিলেন। তিনি তখন বাংলার মানুষের জন্য সাহায্য চেয়ে ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘তুমি আমার বাংলার মানুষকে খাদ্য দাও, আমার বাংলার মানুষকে তুমি সাহায্য কর, আমার বাংলার মানুষকে তুমি কাপড় দাও। তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্টের বলেছিলেন, শেখ মুজিব তোমার বাংলার মানুষকে খাদ্যে ও কাপড়ে পরিপূন্ন করে দেব। তোমার বাংলার মানুষকে অর্থ দিয়ে ভরে দেব। শুধু মাত্র আমার একটি অনুরোধ তোমাকে রাখতে হবে। তোমার সেন্ট মার্টিন দ্বীপে আমার সামরিক বাহিনীর ঘাটি তৈরীর ব্যবস্থা করে দাও। তখন বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমার বাংলার মানুষ গরীব হতে পারে, কিন্তু তুমি মনে রেখ, আমার বাংলার দামাল ছেলেরা নয় মাস যুদ্ধ করে এদেশকে স্বাধীন করেছে। আমার বাংলার ছেলেরা বেঁচে থাকতে কোনো দিনও সম্ভব না। এক ইঞ্চি মাটিও তোমাদের মাঝে তোলে দিতে পারি না।’

 

 

 

 

 

 

 

 

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমেরিকার সেই ষড়যন্ত্র, সেই দিন পাকিস্তানের পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্র সব কিছু মিলে ‘৭৫সালের ১৫ আগস্টের আমার পিতার লাশ ধানমন্ডির ৩২ নাম্বার বাড়ির সামনে ফেলে রেখে ছিল। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার ১৯৮১ সালের ১৭ মে আমাদের দেশে প্রত্যাবর্তন করে। সেই ঘোষণা করেছিলেন এই দেশেই বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার করা হবে। সেই বিচারের জন্য তিনিও কয়েকবার হত্যার ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়েছেন।

ছাত্রলীগের সামনে একটি মাত্র দায়িত্ব উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, ওরা অস্ত্র দিয়ে, ওরা গ্রেনেড দিয়ে আমার প্রিয় নেত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে অামাদের কাছ থেকে কেড়ে নিতে চেয়ে ছিল। আমরা ছাত্রলীগ বেঁচে থাকতে বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলের সামান্যতম অস্তিত্ব এই বাংলার মাটিতে রাখতে চাই না। আমরা তা রাখবো না।

তিনি আরও বলেন, ষড়যন্ত্র থামে নাই। ষড়যন্ত্র সামনেও চলবে। এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করবার এই ছাত্রলীগকেই দায়িত্ব নিতে হবে। আগামী দিনের যে কোনো চ্যালেঞ্জ শোভন-রাব্বানী, সনজিৎ এবং সাদ্দাম এক সাথে লড়তে হবে তাদেরকে একটাই কথা বলি, তোমাদেরকে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা নিজের হাতে নেতৃত্বে বসিয়েছে। তার অনেক আকাঙ্খা, অনেক স্বপ্ন, তার সামনে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। তোমরা বেচে থাকতে বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র করতে দেয়া যাবেনা।

আপনার মতামত লিখুন :
error0



এই বিভাগের আরো খবর